Saturday, April 25, 2020

কমরেড পু-এর আত্মহত্যা -- মলয় রায়চৌধুরীর পোস্টমডার্ন কবিতা

উৎসর্গ : মারুফুল আলম
কমরেড পু, ম-১ এর খুড়তুতো বোন, গলায় দড়ি বেঁধে, ঝুলে পড়ল ।
         পুলিশের ডাক্তার ট-১ জানিয়েছিল, যুবতীটি মারা গেছেন
রাত ১টা ৪০শে, তাহলে পু ওর আত্মহত্যার কবিতায়, তারিখের তলায়
         কেন সময় লিখেছে রাত ৩টে ৩০ ?
কবিতাটা থানা থেকে পাওয়া যায়নি, ইন্সপেক্টর জ-৩ বললেন,
         সনেটে লেখা আত্মহত্যার চিরকুট ফেরত দেয়া নিষেধ ।
এফ আই আর-এ লেখা ছিল, "চাঁদ ওঠে নাই, বাতাস বহিয়াছিল, শৃগালিনী
         পুংশৃগালকে ডাকিতেছিল, ইহা শরৎকাল, ৩০০ বছরের পুরানো ইঁট,
         বরগার চিড়ের কারণে চড়াইপাখির ডিম পড়িয়া ফাটিয়া গিয়াছে,
         পুংচড়াই নালিশ করিতেছিল, নথিবদ্ধ করা হইয়াছে ।"
কমরেড পু, যে ম-১ এর কাকা ন-২ এর মেয়ে, কেন আত্মহত্যা করল
         তা কবিতায় লেখেনি । পু সোভিয়েত রাষ্ট্রে যেতে চায়নি ।
         পু মনে করতো, রুবলহারামিরা নবযুগ আনতে পারবে না,
         নিজের, ছেলেমেয়ের, জ্ঞাতিগুষ্টির নবযুগ আনবে বটে,
         বাড়ি, গাড়ি, নার্সিং হোম, প্রায়ভেট স্কুল খুলে ফেলবে ।
         ম-১কে লিখে বলেছে, "ছোড়দা, ছন্দে ভুল থাকলে শুধরে দিও।"
ম-১ তো নিজেই কোনো জন্মে সনেট লেখেনি, মনে-মনে ছকে রেখেছিল,
         কখনও আত্মহত্যা করলে, নাটকের আঙ্গিকে চিরকুট লিখবে,
কেননা ম-১ এর আত্মহত্যা করার বহু কারণ জীবনে ঘটে থাকলেও,
         কাজটা ম-১ মুলতুবি রেখেছে, ম-১ এর জীবনে খলনায়ক
         সংখ্যায় বড়ো বেশি, যেমন স-২, স-৩, স-৪, শ-১, শ-২ ।
কমরেড পু-এর আত্মহত্যার কোনো কারণ ছিল না । এই ব্যাপারটাই
         ভালো লাগে ম-১ এর, আত্মহত্যার কারণ না থাকলেও
         আত্মহত্যার ইচ্ছে । পু টাকাহারামিদেরও বিশ্বাস করতে পারেনি ।
         বলতো, "আমাদের আদর্শকে গুয়ের সমুদ্রে চুবিয়ে দেবে ।"
ইচ্ছেকে ক্রিয়ায় পালটে ফেলার আহ্লাদটাই কমরেড পু-এর
         আত্মহত্যার কারণ হতে পারে ।
পু যে নিৎশে, কাফকা, ভারতচন্দ্র, ঋত্বিক পড়তো, তা ম-১ জানে,
         'রসমঞ্জরী' পড়ে জানতে চাইতো ও কোন ধরণের যুবতী ।
পু আত্মহত্যা করার পর, বড়োঘরের বরগা, যা থেকে পু ঝুলেছিল,
         ভেঙে পুরোবাড়ি ধ্বসে পড়ল যখন, পু-এর আত্মহত্যা
         গুরুত্ব হারিয়ে হয়ে গেল বসতবাড়ির আত্মহত্যা ।
ম-১ এর ঠাকুমা অ বললেন, "ওই ঘর ছিল অভিশপ্ত, তোদের বংশের অনেক
         লম্পট পুরুষ বাইজির মদে মেশানো বিষ খেয়ে মরেছে ;
তা হত্যা ছিল না আত্মহত্যা না অতিযৌনতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আজও
         জানা যায়নি।"
ঠাকুমা অ বলে উঠেছিলেন, "ছি ছি রসমঞ্জরী ! কোন মেয়ের চুল নেই
         কোন মেয়ের কম চুল, কোন মেয়ের চুলে চুল ! ওই চুলের খোঁজেই
বংশের পুরুষগুলো মাগিদের কোঁচড়ে মুখ গুঁজে মরল । তোরা মাগিদের নিয়ে
        র‌্যালা করলে বেপাড়ায় গিয়ে করিস, সেখানকার মাগিরা
        চুল রাখে না বলে শুনিচি ।"
ম-১ এর দাদা স-১ জানতে চেয়েছিল, "এই অভিশপ্ত ব্যাপারটা কী গো?"
         ঠাকুমা অ বলেছিলেন, "ওসব আমাদের কালের ব্যাপার,
         বজরা ভাসতো, ঝাড়লন্ঠনের রোশনাই ঝিকমিক, ঘুঙুর,
         চিকের আড়াল, রুপোর রেকাবি, বিলিতি মদ, মুজরো।"
ঠাকুমার পরামর্শে ম-১ আর তার দাদা স-১ যৌবনে অনেক মাগিবাজি
         করেছিল । তরুণী গবেষকরা তা লিখে রেখেছেন ।
পু তা জানতে পারেনি, ভাগ্যিস । নয়তো এই নিমকলঙ্ককেই ওর
         আত্মহত্যার কারণ বলে শিলমোহর দিতো ।
সেই থেকে চিরকুটহীন আত্মহত্যা ম-১ এর পছন্দ । সনেটের বদলে
         পু ওয়াটার কালার এঁকে যেতে পারতো ।
ফ্রেমে আত্মহত্যা বাঁধিয়ে রাখতো ম-১ এর কাকা ন-২, আর পু-এর নিজের
         দুই বেয়াড়া ভাই জ আর ম-২ ।
আত্মহত্যার কোনো কারণ থাকা উচিত নয় । কেন ক-এর জন্য খ,
         খ-এর জন্য গ, গ-এর জন্য ঘ, ঘ-এর জন্য ঙ, ঙ-এর জন্য
আত্মহত্যা করার কারণের মানে হয় না কোনো । আত্মহত্যা করার হলে
         উঠে দাঁড়াও, বিষ খাও, সন্ধ্যার নদীতে গিয়ে ডুব দাও,
         আকাশ তোমাকে দেখুক চুল এলিয়ে সাগরের দিকে ভেসে চলেছ ।

Sunday, April 5, 2020

মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা : চীনা মেয়ে


"চীনা মেয়ে"
বাদুড়খাকি চীনা মেয়ের ঠোঁটেতে তুই চুমু খাবি ?
ওই মেয়ে তো কুকুর বেড়াল ঢোঁড়া সাপের মাংসখাকি !
প্যাঙ্গোলিনের আঁশের গুঁড়োয় চাগিয়ে তোলে অরগ্যাজম !
জেনেশুনে তার ঠোঁটে তুই চুমু খাবি ?
খাবো খাবো খাবো । বুকের হলুদ-লালচে বোঁটায় টুসকি দেবো ।
.
ওর দাদু যে মাও-জে দঙের লম্বা লাফে শামিল ছিল ।
মাওয়ের মতন ওর দাদুরও গোটাকতক রাখেল ছিল ।
বাবা তো ওর সাম্যবাদী দলের নেতা, অঢেল পুঁজি ।
খাবো খাবো খাবো । স্বাদু ঠোঁটে কামড় দিয়ে চিপকে যাবো ।
অরগ্যাজমের জোয়ার-রসে যা-হবার-তা-হোকগে বলে চুসকি দেবো ।

Thursday, April 2, 2020

মলয় রায়চৌধুরী সম্পর্কে সোনালী দাস


সোনালী দাস
30 এপ্রিল, 2017
কবি মলয় রায়চৌধুরী আমার বিশেষ বন্ধু। ফেবুতে অনেকেই বন্ধু হয়েই একদম ইনবাকসোয়, "হাই, আছো?" গেছো ব্যাপার। 'আপনি' বলার অনুরোধে তাঁরা বাজে বাজেন, "আরে বন্ধুকে তুমিই বলে।" ভাগ্যিস 'তুই' নয়! আমার ধারণা, যে কথা পেরেণ্টস বা কাপলের মধ্যেও বলা যায়না, তা যাকে যায়, সেই 'বন্ধু'। কিছু সে অর্থেও কবির সাথে আমার সে বন্ধন আছে। কথাবার্তা হয়, কিছু সুখ দুঃখ-যন্ত্রণা। সুদীর্ঘ ৭৭ টি দুর্গম সৌরপ্রদক্ষিণ কেড়ে নিয়েছে তাঁর বহু শারীরিক প্রাবল্য। আমার ইনবাকসোতেও দীর্ঘক্ষণ ক্লেশ দিই তাঁর আর্থ্রাইটিস আক্রান্ত আঙুলকে প্রায়শই। তাঁকে নিয়েই এই রোব্বারে মেতে থাকা আমার।
১৯৬১ নভেম্বর, পাটনা শহর থেকে একটি ইশতাহার প্রকাশের মাধ্যমে হাংরি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। মলয় রায়চৌধুরী এই বিখ্যাত সাহিত্য আন্দোলনের পথিকৃৎ। কবির সাথে এই আন্দোলনের সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন কবির দাদা সমীর রায়চৌধুরী, আন্দোলনের সম্পাদনা ও বিতরণে ছিলেন কবি হারাধন ধারা (দেবী রায়) এবং নেতৃত্বে ছিলেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
প্রথম দিকে চারজন মিলে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটালেও, এই চারজ্নের প্রত্যেকের যে পৃথক ঘনিষ্ঠ মহল ছিল, তারা একে একে এই আন্দোলনে যোগ দেয়। আন্দোলনের কাঠামো ছিল খোলামেলা, ফলে যোগ দেওয়ার শর্ত ছিল অবাধ। বয়সের তফাত ছিল প্রত্যেক ঘনিষ্ঠমহলের, প্রথম থেকে যে-জন্য দশকভিত্তিক জটলা বা গোষ্ঠীমুখীনতা প্রশ্রয় পায়নি। হাংরি আন্দোলনে যারা এক এক করে যোগ দিয়েছেন, এমন কি যোগ দিয়ে পরে সরে গেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থেকেছে এই পার্থক্য আর ঐক্যের এই সমীকরণে আর কাঙ্খিত অবস্থানপন্নতার ক্রমনির্মাণে।
হাংরি আন্দোলনের তীব্রতায় হতভম্ব হয়ে পড়ে তৎকালীন অচলায়তনগুলি। আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হয়। মলয় রায়চৌধুরীকে হাতে হাতকড়া এবং কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যায় চোর-ডাকাতদের সঙ্গে।
মোকদ্দমা দায়ের হয় ১৯৬৪ সালে এবং তা চলে ৩৫ মাস, অর্থাৎ ১৯৬৭ পর্যন্ত। ১২০বি এবং ২৯৪ ধারা তুলে নিয়ে কেবল ২৯২ ধারায় চার্যশীট দেয়া হয় মলয় রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর "প্রচন্ড বৈদ্যুতিক ছুতার" কবিতাটির জন্য; বাদবাকি সবাইকে রেহাই দেয়া হয়। কবির পক্ষে সাক্ষী ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তরুণ সান্যাল, জ্যোতির্ময় দত্ত এবং সত্রাজিত দত্ত। পুলিশের পক্ষে অর্থাৎ কবির বিরুদ্ধে সাক্ষী ছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শৈলেশ্বর ঘোষ, সুভাষ ঘোষ, পবিত্র বল্লভ, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এবং উৎপলকুমার বসু। নিম্ন আদালতে সাজা হলেও, তিনি উচ্চ আদালতে মামলা জিতে যান।
৪৫ বছর পরও এই কবিতাটি নিয়ে বিতর্ক কবিতাটিকে জীবন্ত রেখেছে এবং এম ফিল ও পি এইচ ডি গবেষণার বিষয়বস্তু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত 'Modern And Postmodern Poetry Of The Millennium' সংকলনে দক্ষিণ এশিয়া থেকে অন্তর্ভুক্ত এইটিই একমাত্র কবিতা এই "প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার" কবিতাটি।
সর্বাধিক আবেদনময় ও প্রশংসার্হ কবিতাটি শুনি Tanumay Goswami এর
কাছে, < https://youtu.be/DE--EZ3F5XA >। কবিতাটির এতোটাই তেজষ্ক্রীয়তা, এখনও আবৃত্তি করে চলেছেন বহু নবীন কণ্ঠ। এখানে কবিতাটি পাঠ করেছেন বাংলাদেশের তরুণ রাজীব চৌধুরী।
নীচে কালজয়ী কবিতাটি --

প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার / মলয় রায়চৌধুরী
ওঃ মরে যাব মরে যাব মরে যাব
আমার চামড়ার লহমা জ্বলে যাচ্ছে অকাট্য তুরুপে
আমি কী কোর্বো কোথায় যাব ওঃ কিছুই ভাল্লাগছে না
সাহিত্য-ফাহিত্য লাথি মেরে চলে যাব শুভা
শুভা আমাকে তোমার তর্মুজ-আঙরাখার ভেতরে চলে যেতে দাও
চুর্মার অন্ধকারে জাফ্রান মশারির আলুলায়িত ছায়ায়
সমস্ত নোঙর তুলে নেবার পর শেষ নোঙর আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে
আর আমি পার্ছিনা, অজস্র কাঁচ ভেঙে যাচ্ছে কর্টেক্সে
আমি যানি শুভা, যোনি মেলে ধরো, শান্তি দাও
প্রতিটি শিরা অশ্রুস্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে হৃদয়াভিগর্ভে
শাশ্বত অসুস্থতায় পচে যাচ্ছে মগজের সংক্রামক স্ফুলিঙ্গ
মা, তুমি আমায় কঙ্কালরূপে ভূমিষ্ঠ করলে না কেন ?
তাহলে আমি দুকোটি আলোকবর্ষ ঈশ্বরের পোঁদে চুমু খেতুম
কিন্তু কিছুই ভালো লাগে না আমার কিছুই ভালো লাগছে না
একাধিক চুমো খেলে আমার গা গুলোয়
ধর্ষণকালে নারীকে ভুলে গিয়ে শিল্পে ফিরে এসেছি কতদিন
কবিতার আদিত্যবর্ণা মুত্রাশয়ে
এসব কী হচ্ছে জানি না তবু বুকের মধ্যে ঘটে যাচ্ছে অহরহ
সব ভেঙে চুরমার করে দেব শালা
ছিন্নভিন্ন করে দেব তোমাদের পাঁজরাবদ্ধ উত্সব
শুভাকে হিঁচড়ে উঠিয়ে নিয়ে যাব আমার ক্ষুধায়
দিতেই হবে শুভাকে
ওঃ মলয়
কোল্কাতাকে আর্দ্র ও পিচ্ছিল বরাঙ্গের মিছিল মনে হচ্ছে আজ
কিন্তু আমাকে নিয়ে কী কোর্বো বুঝতে পার্ছিনা
আমার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
আমাকে মৃত্যুর দিকে যেতে দাও একা
আমাকে ধর্ষণ ও মরে যাওয়া শিখে নিতে হয়নি
প্রস্রাবের পর শেষ ফোঁটা ঝাড়ার দায়িত্ব আমায় শিখতে হয়নি
অন্ধকারে শুভার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়া শিখতে হয়নি
শিখতে হয়নি নন্দিতার বুকের ওপর শুয়ে ফরাসি চামড়ার ব্যবহার
অথচ আমি চেয়েছিলুম আলেয়ার নতুন জবার মতো যোনির সুস্থতা
যোনিকেশরে কাঁচের টুকরোর মতো ঘামের সুস্থতা
আজ আমি মগজের শরণাপন্ন বিপর্যয়ের দিকে চলে এলুম
আমি বুঝতে পার্ছিনা কী জন্য আমি বেঁচে থাকতে চাইছি
আমার পূর্বপুরুষ লম্পট সাবর্ণ চৌধুরীদের কথা আমি ভাবছি
আমাকে নতুন ও ভিন্নতর কিছু কোর্তে হবে
শুভার স্তনের ত্বকের মতো বিছানায় শেষবার ঘুমোতে দাও আমাকে
জন্মমুহুর্তের তীব্রচ্ছটা সূর্যজখম মনে পড়ছে
আমি আমার নিজের মৃত্যু দেখে যেতে চাই
মলয় রায়চৌধুরীর প্রয়োজন পৃথিবীর ছিল না
তোমার তীব্র রূপালি য়ুটেরাসে ঘুমোতে দাও কিছুকাল শুভা
শান্তি দাও, শুভা শান্তি দাও
তোমার ঋতুস্রাবে ধুয়ে যেতে দাও আমার পাততাড়িত কঙ্কাল
আমাকে তোমার গর্ভে আমারি শুক্র থেক জন্ম নিতে দাও
আমার বাবা-মা অন্য হলেও কি আমি এরকম হতুম ?
সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শুক্র থেকে মলয় ওর্ফে আমি হতে পার্তুম ?
আমার বাবার অন্য নারীর গর্ভে ঢুকেও কি মলয় হতুম ?
শুভা না থাকলে আমি কি পেশাদার ভালোলোক হতুম মৃত ভায়ের
ওঃ বলুক কেউ এসবের জবাবদিহি করুক
শুভা, ওঃ শুভা
তোমার সেলোফেন সতিচ্ছদের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীটা দেখতে দাও
পুনরায় সবুজ তোশকের উপর চলে এসো শুভা
যেমন ক্যাথোড রশ্মিকে তীক্ষ্ণধী চুম্বকের আঁচ মেরে তুলতে হয়
১৯৫৬ সালের সেই হেস্তনেস্তকারী চিঠি মনে পড়ছে
তখন ভাল্লুকের ছাল দিয়ে সাজানো হচ্ছিল তোমার ক্লিটোরিসের আশপাশ
পাঁজর নিকুচি-করা ঝুরি তখন তোমার স্তনে নামছে
হুঁশাহুঁশহীন গাফিলতির বর্ত্মে স্ফীত হয়ে উঠছে নির্বোধ আত্মীয়তা
আ আ আ আ আ আ আ আ আ আঃ
মরে যাব কিনা বুঝতে পার্ছিনা
তুল্কালাম হয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতরকার সমগ্র অসহায়তায়
সব কিছু ভেঙে তছনছ করে দিয়ে যাব
শিল্পের জন্যে সক্কোলকে ভেঙে খান-খান করে দোব
কবিতার জন্য আত্মহত্যা ছাড়া স্বাভাবিকতা নেই
শুভা
আমাকে তোমরা ল্যাবিয়া ম্যাজোরার স্মরণাতীত অসংযমে প্রবেশ কোর্তে দাও
দুঃখহীন আয়াসের অসম্ভাব্যতায় যেতে দাও
বেসামাল হৃদয়বত্তার স্বর্ণসবুজে
কেন আমি হারিয়ে যাইনি আমার মায়ের যোনিবর্ত্মে
কেন আমি পিতার আত্মমৈথুনের পর তাঁ পেচ্ছাপে বয়ে যাইনি
কেন আমি রজঃস্রাবে মিশে যাইনি শ্লেষ্মায়
অথচ আমার নিচে চিত আধবোজা অবস্থায়
আরাম গ্রহণকারিনী শুভাকে দেখে ভীষণ কষ্ট হয়েছে আমার
এরকম অসহায় চেহারা ফুটিয়েও নারী বিশ্বাসঘাতিনী হয়
আজ মনে হয় নারী ও শিল্পের মতো বিশ্বাসঘাতিনী কিছু নেই
এখন আমার হিংস্র হৃৎপিণ্ড অসম্ভব মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে
মাটি ফুঁড়ে জলের ঘূর্ণি আমার গলা ওব্দি উঠে আসছে
আমি মরে যাব
ওঃ এ সমস্ত কী ঘটছে আমার মধ্যে
আমি আমার হাত হাতের চেটো খুঁজে পাচ্ছি না
পায়জামার শুকিয়ে যাওয়া বীর্য থেকে ডানা মেলছে
৩০০০০০ শিশু উড়ে যাচ্ছে শুভার স্তনমণ্ডলীর দিকে
ঝাঁকে ঝাঁকে ছুঁচ ছুটে যাচ্ছে রক্ত থেকে কবিতায়
এখন আমার জেদি ঠ্যাঙের চোরাচালান সেঁদোতে চাইছে
হিপ্নোটিক শব্দরাজ্য থেকে ফাঁসানো মৃত্যুভেদী যৌন-পর্চুলায়
ঘরের প্রত্যেকটা দেয়ালে মার্মুখী আয়না লাগিয়ে আমি দেখছি
কয়েকটা ন্যাংটো মলয়কে ছেড়ে দিয়ে তার অপ্রতিষ্ঠ খেয়োখেয়ি

হাংরি বুলেটিন / ১৯৬৪

Monday, March 30, 2020

The Hungryalists : Review by Sudeep Sen

Monday, Mar 30, 2020 | Last Update : 07:37 PM IST

Polyphony: The call of Bengal, the idea of Bengal

THE ASIAN AGE. | SUDEEP SEN
Published : Mar 27, 2020, 5:04 pm IST
Updated : Mar 27, 2020, 5:15 pm IST
Four very different books that are equally engaging for the stories they tell and how they choose to tell them
(From left) Title: Thirteen Kinds of Love. Author: Soumya Bhattacharya. Publisher: HarperCollins. Pages: 192. Price: 399. Title: The Hungryalists: The Poets Who Sparked a Revolution. Author: Maitreyee Bhattacharjee Chowdhury. Publisher: Penguin. Pages: 188. Price: Rs.599. Title: Sarojini’s Mother. Author: Kunal Basu. Publisher: Penguin. Pages: 232. Price: Rs.599

 Title: The Hungryalists: The Poets Who Sparked a Revolution.
 Author: Maitreyee Bhattacharjee Chowdhury.
 Publisher: Penguin. Pages: 188. Price: Rs.599. 
The Hungryalists: The Poets Who Sparked a Revolution by Maitreyee Bhattacharjee Chowdhury (Penguin)
 is a captivating read for anyone interested in poetry and lives 
of poets, and also those interested in the period of Indian history 
where the ‘Hungry Generation’ group of “barnstorming, 
anti-establishment poets, writers and artists in Bengal in 
the 1960s” altered the literary terrain there and beyond 
 (including Beat Generation poets like Allen Ginsberg). 
Using a judicious mix of non-fiction/fiction techniques,
 Chowdhury lays before us an extraordinary story of our time 
that has largely gone unmapped. This is an urgent and 
important book written with intelligence and lucidity.

হাংরি আন্দোলনের কবি দেবী রায় : নিখিল পাণ্ডে

  হাংরি আন্দোলনের কবি দেবী রায় : নিখিল পাণ্ডে প্রখ্যাত কবি, হাংরির কবি দেবী রায় ৩ অক্টোবর ২০২৩ চলে গেছেন --- "কাব্য অমৃতলোক " ফ্ল্...