Showing posts with label উৎপল ত্রিবেদী. Show all posts
Showing posts with label উৎপল ত্রিবেদী. Show all posts

Friday, August 6, 2021

মলয় রায়চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উৎপল ত্রিবেদী

 


মলয় রায়চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উৎপল ত্রিবেদী

উৎপল : খুব সংক্ষেপে হাংরি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু বলুন ।


মলয় : ১৯৬০ সালে সাধারণভাবে ভারতের এবং বিশেষ করে পশ্চিমবাংলার উত্তর-ঔপনিবেশিক সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনেটিক অবস্হা যা হয়েছিল, দেশভাগের অজস্র ঘরভাঙা মানুষদের দেখতে-দেখতে এবং সেই সময়ের বাংলা কবিতা পড়তে পড়তে আমাদের মনে হয়েছিল একটা সম্পূর্ণ ওলোট-পালোট দরককার । ১৯৬১ সালে অক্টোবরে আমি, দাদা সমীর রায়চৌধুরী, দাদার বন্ধু শক্তি চট্টোপাধ্যায় এবং আমার বন্ধু হারাধন ধাড়া ( দেবী রায় ) সবাই মিলে হাংরি আন্দোলনের পরিকল্পনা করি । ১৯৬১ সালের পয়লা নভেম্বর পাটনা থেকে আমি ইংরেজিতে একটা বুলেটিন ছাপিয়ে দেবী রায়কে পাঠাই ; উনি কলকাতায় বিলি করার পরই তুমুল চর্চা আরম্ভ হয় এবং ক্রমে প্রায় তিরিশ জন আন্দোলনে যোগ দেন । প্রথম বুলেটিন ইংরেজিতে ছাপাতে হয়েছিল, তার কারণ পাটনায় বাংলা প্রেসগুলো কেবল উপনয়ন, বিয়ে আর শ্রাদ্ধর কার্ড ছাপতো । হাংরি শব্দটা আমি পেয়েছিলুম জিওফ্রে চসারের ‘ইন দ্য সাওয়ার হাংরি টাইম’ থেকে আর দার্শনিক বনেদটা পেয়েছিলুম অসওয়াল্ড স্পেংলারের সংস্কৃতি বিষবক বিশ্লেষণ থেকে ।


উৎপল : কোন তাড়না থেকে আপনার কবিতার জগত এবং হাংরি আন্দোলন নিয়ে জড়িয়ে পড়া ?


মলয় : কবিতা লিখতে আরম্ভ করেছিলুম ১৯৫৯-৬০ নাগাস । দাদা সিটি কলেজে পড়তেন এবং তিরিশের দশকের কবিদের আর কল্লোলের লেখকদের বই এনে দিতেন । উনি মামার বাড়ি পাণিহাটিতে থাকতেন এবং ছোটোমামার মার্কসবাদী ভাবনা-চিন্তায় প্রভাবিত হয়েছিলেন । পরে বিহারের জাতপাতের প্রেক্ষিতে ওনার মনে হয়রছি যে বাস্তব সমাজের সঙ্গে তা খাপ খাচ্ছে না । ১৯৬০ সালে আমি এই মর্মে “মার্কসবাদের উত্তরাধিকার” নামে একটা বই লিখেছিলুম, যার প্রকাশক ছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় । ১৯৬৩ সালে আমার কাব্যগ্রন্হ “শয়তানের মুখ” কৃত্তিবাস প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় । তোমার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের উত্তর আগেই দিয়েছি ।


উৎপল : ১৯৬৪ সাল । ‘প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার’ লেখার পর আপনার নামে আদালতে মামলা হলো । বাংলা সাহিত্যে বোধহয় এই প্রথম কোনও কবিকে অশ্লীলতার দায়ে প্রকাশ্যে হাতে হাতকড়া ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । এই যে শুধু কবিতার জন্য জেল খাটা, একের পর এক মামলায় রাষ্ট্র আপনাকে নাজেহাল করে দেয়া -- এই মুহূর্তে সেই বিষয়গুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন ?


মলয় : একটা ব্যাপার বেঝতে পেরেছিলুম যে যাবতীয় লড়াই একজনকে একাই লড়তে হয় । সুবিমল বসাক ছাড়া আর কারোর সঙযোগীতা তখন পাইনি । এখন এটা নিয়ে বিশেষ ভাবি না ; তবে শৈলেশ্বর ঘোষ আর ওনার শিষ্য সব্যসাচী সেন যেভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে চলেছেন, তাতে বিরক্ত বোধ করি । আর এনাদের দুজনকে উৎসাহ জুগিয়েছেন শঙ্খ ঘোষ, দে’জ থেকে বিকৃত ইতিহাস প্রকাশ করিয়ে, তাতে তাঁরও লেখা আছে, আরও অনেকের লেখা আছে যারা হাংরি আন্দোলনে ছিল না । অথচ ওই বই থেকে যারা আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল তাদের সবাইকে বাদ দেয়া হয়েছে ।


উৎপল : সমীর রায়চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “হাংরি আন্দোলন বাংলা সাহিত্যে আরও কুড়িটা আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে” -- পরবর্তীতে কোন আন্দোলনে হাংরির প্রভাব আছে বলে আপনার মনে হয় ?


মলয় : নিম সাহিত্য, শ্রুতি, শাস্ত্রবিরোধী, অপরসাহিত্য, নতুন-কবিতা, কংক্রিট কবিতা, ভাষাবদলের সাহিত্য, অধুনান্তিক সাহিত্য, উত্তরআধুনিক সাহিত্য -- এরকম বেশ কয়েকটা, সবগুলো এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না ।


উৎপল : বর্তমান সমাজ ব্যবস্হায় হাংরি আন্দোলনের প্রভাব কি ফুরিয়েছে ?


মলয় : হাংরি আন্দোলন ছিল একটা ক্রোনোট্রপিকাল ( সময়/পরিসর ) ঘটনা । আন্দোলন তার কাজ করে গেছে । ত্রিপুরা, উত্তরবঙ্গতেও কবিরা সেসময়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন । যেমন সুররিয়ালিজম, ডাডাবাদ, ইমেজিজম, ফিউচারিজম, কিউবিজম ইত্যাদি আন্দোলন কবেই শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তারা এখনও ভেতরে-ভেতরে কাজ করে চলেছে । তারা যখন আবির্ভূত হয়েছিল, তখন তাদের বিশেষ প্রয়োজন ছিল । তেমনিই হাংরি আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ছিল ওই সময়ে ।


উৎপল : আন্দোলনের একপর্যায়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় রাজসাক্ষী হন । সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, দেবী রায় প্রমুখ পিছুটান দেন এবং আপনাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার চালান । আপনি এ বিষয়গুলো কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন ?


মলয় : শক্তি রাজসাক্ষী ছিলেন না, আমার বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন, যেমন ছিলেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এবং উৎপলকুমার বসু । আমার বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন শৈলেশ্বর ঘোষ আর সুভাষ ঘোষ, যা ওরা চেপে গিয়ে বহুকাল আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে । আমেরিকা থেকে সন্দীপনকে লেখা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের চিঠি থেকে জানা গেছে যে সুনীল ভেবেছিলেন হাংরি আন্দোলনের সূত্রপাত করা হয়েছে কৃত্তিবাস গোষ্ঠীকে ভেঙে ফেলার জন্য । এটা বোকার মতন কথাবার্তা । উনি বিদেশে বসে বোধহয় ভাবছিলেন কলকাতায় সবাই লুটেপুটে খেয়ে নিচ্ছে, ওনার জন্যে খুদকুঁড়োও থাকবে না । আমার কেস যখন আদালতে চলছে, উনি কেসের সাবজুডিস অবস্হায় কৃত্তিবাস পত্রিকায় হাংরি আন্দোলনের বিরুদ্ধে সম্পাদকীয় লিখেছিলেন । আবু সয়ীদ আইয়ুবকে লেখা অ্যালেন গিন্সবার্গের চিঠি থেকে এখন জানা গেছে যে সম্পাদকীয় লিখেছিলেন পুলিশের নির্দেশে । দেবী রায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, ছাড়া পান, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে ওনার ক্রোধের কারণ মামলার কারণে চাকরি চলে যাবার ভয় । উনি সেসময়ে বস্তিতে থাকতেন, গরিব পরিবারের লোক, বলেছিলেন যে চাকরি চলে গেলে আত্মহত্যা করতে হবে । অপপ্রচার তো এখনও বজায় আছে । কিন্তু তাতে কিছুই আসে যায় না । আমি তো নিজের যেমন ইচ্ছে দিব্বি লেখালিখি করে যাচ্ছি । এই ধরণের নোংরা ব্যাপার পৃথিবীর সব সাহিত্যসমাজে হয়ে এসেছে আর চলছে । আমাদের এখানে পণ্যসাহিত্যের আনন্দবাজারি কারবারের কারণে তা পচে পোকাধরা লাশ হয়ে গেছে ।


উৎপল : বহু আলোচক হাংরি আন্দোলনকারীদের সেসময়ের কার্যকলাপে ডাডাবাদের প্রভাব লক্ষ করেছেন বলে সমালোচনা করেন । এই কারণে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়,  সতীন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ হাংরি আন্দোলন ত্যাগ করেন । এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী ?


মলয় : না, না, সন্দীপন আন্দোল ছাড়েন পুলিশের হুমকির কারণে । ওনাকে, শক্তিকে, উৎপলকে গ্রেপ্তার করার হুমকি দিয়েচিল পুলিশ । আনন্দবাজারের মাধ্যমে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও চাপ দিচ্ছিলেন ওনাদের । উৎপলের তো যোগমায়া দেবী কলেজে লেকচারারের চাকরিও চলে গিয়েছিল ; তারপর অ্যালেন গিন্সবার্গের সুপারিশে লণ্ডনের একটা স্কুলে চাকরি পান । সতীন্দ্র ভৌমিক হাংরি আন্দোলনে ছিলেন না । উনি ‘এষণা’ নামে একটা পত্রিকা বের করতেন । ১৯৬৩ সালে সেই পত্রিকায় শৈলেশ্বর ঘোষের কবিতা পড়ে আমি দেবী রায়ের মাধ্যমে শৈলেশ্বরকে হাংরি আন্দোলনে এনেছিলুম । শৈলেশ্বরের সঙ্গে একই ঘরে থাকতো । আর ডাডাবাদের প্রভাব সম্পর্কে বলি, আগে যে সমস্ত আন্দোলন বা লেখালিখি হয়ে গেছে তাদের প্রভাব পরের লেখালিখিতে থাকবেই ।


উৎপল : অচলায়তন ভাঙার যে শ্লোগান দিয়ে হাংরি আন্দোলন শুরু করেছিলেন, আপনার কি মনে হয় তা স্তিমিত হয়ে গেছে অথবা আজও চলছে ?


মলয় : সিপিএম সরকার আসার পর প্রমোদ দাশগুপ্ত সারা পশ্চিমবাংলায় যে স্ট্যালিনিস্ট নেটওয়র্ক গড়ে তুলেছিলেন, যেটা পরিশ্রম না করেই পরের সরকার পেয়ে গেছে, তারা তো অচলায়তনের পাইক-বরকন্দাজের রক্তচোষার দিগ্বিজয় আরম্ভ করে দিয়েছিল । বিধবা মায়ের মুখে ছেলের রক্তমাখাভাত গুঁজে দিয়েছে, পেট্রল ঢেলে সাধু-সন্ন্যাসীদের পুড়িয়েছে, জিপগাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মহিলা অফিসারদের গণধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে, গ্রামবাসীদের খুন করে বা জ্যান্ত মাটির তলায় পুঁতে দিয়েছে । ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে ফেলেছিল সাহিত্যিকরা ; সুভাষ ঘোষ আর বাসুদেব দাশগুপ্ত সুযোগ বুঝে সিপিএমে ঢুকে পড়েছিল । আমি এই ভয়াবহ অবস্হা সম্পর্কে আমার “পোস্টমডার্ন কালখণ্ড ও বাঙালির পতন” পুস্তিকায় বিশ্লেষণ করেছি । এখন বহু সাহসী যুবক-যুবতীদের দেখা পাই, যারা আমাদের পতাকা এগিয়ে নিয়ে চলেছে ।


উৎপল : আপনি একজন অবস্হাপন্ন পরিবারের সন্তান । বাবা কাকা সরকারি চাকরি করতেন । তাঁদের দৃষ্টিতে ‘অশ্লীল’ কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে ফেললেন । সে সময়ে আপনার পপতি বাড়ির প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল ?


মলয় : আমি অবস্হাপন্ন বাড়ির ছেলে কে বলল তোমায় ? বংশটা সাবর্ণ চৌধুরী বলে অনেকে মনে করেন অবস্হাপন্ন । সাবর্ণ চৌধুরীরা উত্তরপাড়ায় রিকশ চালাচ্ছে দেখতে পাবে তুমি । আমার বাল্যস্মৃতি “ছোটোলোকের ছোটোবেলা পো” পোড়ো । ছোটোবেলায় আমরা থাকতুম পাটনা শহরের অন্ত্যজ বিহারি আর অত্যন্ত গরিব মুসলমান অধ্যুষিত ইমলিতলা পাড়ায় । পাড়ার নিবাসীরা ছিল চোর, ডাকাত, পকেটমার ইত্যাদি। দাদা যাতে না কুসঙ্গে পযে খারাপ হয়ে যায় তাই কলেজে পড়ার জন্য দাদাকে মামার বাড়ি পাণিহাটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল । কুড়িজনের পরিবারে বাবা ছিলেন একমাত্র রোজগেরে । ওনার ফোটো তোলার আর ফোটো থেকে ছবি আঁকার দোকান ছিল পাটনা শহরে । পরে বড়ো জেঠা পাটনা মিউজিয়ামে পেইনটিঙ আর মূর্তি ঝাড়পোঁছের চাকরি পেয়েছিলেন, ক্লাস ফোর স্টাফ । ছয় ভাই একবোনের পরিবারে জেঠা-কাকারা কোনও কাজ করতেন না । উত্তরপাড়ার বসতবাড়ির ট্যাক্স আর ঠাকুমার খাইখরচও বাবাকে পাঠাতে হতো প্রতি মাসে ।আমাদের পোশাক আর জুতো কেবল পুজোর সময়ে কেনা হতো ।  দাদা খেলতে গিয়ে জুতো হারিয়ে আসতো আর সারা বছর খালি পায়ে স্কুলে যেতো । আমাদের বাড়ি চিল ফোটোগ্রফার-আর্টিস্টের । জেঠা কাজ করতেন মিউজিয়ামে । তাই শ্লীলতা সম্পর্কে মধ্যবিত্তসুলভ মানসিকতায় বাড়ির লোক ভুগতেন না । মামলার সময়ে কলকাতার আদালতে বাবা-জেঠা-পিসেমশায় আসতেন সাহস যোগাবার জন্যে ।


উৎপল : সাহিত্যে শ্লীল-অশ্লীল কীভাবে নির্ধারিত হয় ? অশ্লীলতার মাপকাঠি আদৌ কি আছে ?


মলয় : ইংরেজরা আসার আগে আমাদের সাইত্যবোধে শ্লীল-অশ্লীল ভেদাভেদ ছিল না । ধাকলে বাৎসায়ন, জয়দেব, বিদ্যাপতি, ভারতচন্দ্র  আমাদেরভাষায় হতে পারতেন না, কবিয়ালদের আবির্ভাব হতো না । খাজুরাহো, কোণারক, পুরীর মন্দিরের স্হাপত্য হতো না । অলঙ্কারশাস্ত্রে প্রথম রসই তো আদিরস । সাম্রাজ্যবাদীরা এসে তাদের ভিকটোরীয় মূল্যবোধ চাপিয়ে দিয়ে গেছে ; তা থেকে বেরোবার আর উপায় নেই । এখন তো বিজেপির লোকেরা শ্লীল-অশ্লীলের বিচারক হয়ে দাঁড়িয়েছে । কোনো লেখায় ভাষার কাজ থাকলে, তা যদি পাঠককে উত্তেজিত করেও, তাকে অশ্লীল বলা চলে না ।


উৎপল : এ পর্যন্ত আপনার কাব্যগ্রন্হ, উপন্যাস, প্রবন্ধ মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা কতগুলো ?


মলয় : সত্তরটার মতো হবে । আমি বইপত্র সংগ্রহে রাখি না, তাই সঠিক সংখ্যা বলতে পারব না । আমার সম্পর্কে পিএইচডি করেছেন বিষ্ণুচন্দ্র দে, উনি এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে রেখেছেন ।


উৎপল : আপনি প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন যা নারীর, তাঁর সম্পর্কে কিছু বলুন । সেটা কোন সময়ে ?


মলয় : সময়টা ১৯৫৪-৫৬ । নারী বলা ভুল হবে । তিনি ছিলেন স্কুলছাত্রী । তাঁর সমর্থনে মারপিট করতে গিয়ে আমাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । কিন্তু ওনার পরিবার কোনোকিছু না জানিয়েই হঠাৎ পাটনা থেকে উধাও হয়ে যান। আমার উপন্যাস ‘রাহুকেতু’তে আমি লিখেছি এই বিষয়ে । গাঙচিল থেকে প্রকাশিতব্য আমার রচনাসংগ্রহের দ্বিতীয় খণ্ডে আছে । ( গাঙচিল মলয়বাবুর রচনাবলী কোনও রহস্যজনক কারণে প্রকাশ করতে অস্বীকার করে )।


উৎপল : নতুন যারা লেখালিখির জগতে আসছে, তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী ?


মলয় : যেমন ইচ্ছের তেমন লেখো, প্রচুর পড়াশুনো করো, একা থাকার চেষ্টা করো, ডায়েরি রাখো, আর অবশ্যই মনে কিছু এলেই তক্ষুনি লিখে রাখো, পরে প্রয়োগ করার জন্য ।


উৎপল : এই সময়ে বিশ্বকাব্যে বাংলা কবিতার স্হান কোথায় বলে মনে করেন ?


মলয় : পোয়েট্রি, প্যারিস রিভিউ, লণ্ডন ম্যাগাজিনের কবিতাগুলো পড়ে বুঝতে পারি, বাংলায় যা লেখা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক কবিতার স্তরে । দুর্ভাগ্য যে অনুবাদ হয় না, যোগ্য অনুবাদক নেই । বিদেশে কবিতা একটা অ্যাবসট্র্যাক্ট আঙ্গিক নিয়েছে, বাংলা কবিতায় অ্যাবসট্র্যাক্ট কবিতা লেখার ধারা তো চলছে নানা কবিতার পাশাপাশি ।


উৎপল : হাংরি ইশতাহারের একটা পয়েন্ট ছিল, “আত্মআবিষ্কারের পর লেখা আর আঁকা ছেড়ে দেওয়া হবে”---এই নীতি আপনারা কতোটুকু মেনে চলেছেন ?


মলয় : সেসময়ে মনে হয়েছিল জীবনের কোনো একটা সময়ে আত্মআবিষ্কার সম্ভব । এখন বুঝতে পারি যে বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে জীবনে এতোপ্রশ্ন জমতে থাকে যে তার উত্তর দেয়া অসম্ভব । ফলে, আত্মআবিষ্কার শেষ হয় না, আরও কঠিন হয়ে উঠতে থাকে ।


উৎপল : গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে উগ্রপন্হীদের হাতে খুন হয়েছেন অভিজিৎ রায়, আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন, নিলয় নীল, ওয়াশিকুর রহমান বাবু প্রমুখ মুক্তমনা ব্লগারদের । ভারতেও গোবিন্দ পানসারে, এম এম কালবার্গিকে হত্যা করেছে কট্টর হিন্দুবাদীরা । সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিপন্ন । আপনার কি মনে হয় না যে শেষ অবধি উগ্রপন্হা এই শতাব্দীর চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াবে ?


মলয় : হ্যাঁ, তাই মনে হয়, এবং তার ফলে একসময়ে কোনো দেশ আণবিক বোমা ব্যবহার করে ফেলবে, যার দরুন হয়তো বিশ্বযুদ্ধও বেধে যেতে পারে ।


উৎপল : কাশ্মীরের মানুষ ভারত রাষ্ট্রের শোষণ, অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে, লড়াই করছে রাষ্ট্রের সেনার সাথে । কাশ্মীরিরা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাঁচতে চায় । আপনি কাশ্মীরের এই আজাদির লড়াইকে কীভাবে দেখছেন ?


মলয় : আমি চাকুরিসূত্রে জম্মুকাশ্মীরে গেছি । হোটেলে পৌঁছোতেই দুজন কাশ্মীরি যুবক ভুল করে আমাকে সাংবাদিক ভেবে গাড়ি নিয়ে এসেছিল বারামুলা নিয়ে যাবার জন্য । পরে, জম্মু ফেরার যে বাসে বসেছিলুম, তার পেছন দিকে বোমা ফেটে আমার অধস্তন অফিসাররা আহত হয়েছিল । আর পি এফের লোকেরা আমাকে আপেল আর আখরোট নিয়ে মুম্বাই ফিরতে দেয়নি । বলেছিল, নিয়ে গেলে এদের সাহায্য করা হবে । তখনই অবস্হাটা ব্যক্তিগতভাবে আঁচ করতে পেরেছিলুম । কাশ্মীর একটা ছোট্ট জায়গা, জম্মু আর লাদাখ থেকে আলাদা, সুতরাং সেখানের লোকেদের স্বাধীনতা দেয়ার অসুবিধা হবার কথা নয় । কিন্তু ভারতে হিন্দুত্ব একটা কায়েমি স্বার্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে ; ভারতীয় পুঁজিবাদের দোসর হয়ে গেছে । কাশ্মীর পাকিস্তানে ঢুকলেই সারা দেশে দেশভাগের সময়ের চেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গা আরম্ভ হবে । পাকিস্তান আর ভারত একসঙ্গে বসে ওদের স্বাধীনতার আর ওদের ব্যাপারে নাক না গলাবার গ্যারেন্টি দিলে সুরাহা সম্ভব । জেনারাল মুশররফ নাকি এরকমই একটা পরিকল্পনা ফাইনাল করে ফেলেছিলেন বাজপেয়ির সঙ্গে আলোচনায় । সমস্যা হলো ভারতীয় এসট্যাবলিশমেন্ট পাকিস্তানের সরকারকে বিশ্বাস করে না ।


( ‘কবিতার দেশে’ পত্রিকার বৈশাখ ২০১৭ সংখ্যায় প্রকাশিত )

হাংরি আন্দোলনের কবি দেবী রায় : নিখিল পাণ্ডে

  হাংরি আন্দোলনের কবি দেবী রায় : নিখিল পাণ্ডে প্রখ্যাত কবি, হাংরির কবি দেবী রায় ৩ অক্টোবর ২০২৩ চলে গেছেন --- "কাব্য অমৃতলোক " ফ্ল্...